Wednesday, September 4, 2019

আলসেমি দূর করার আটটি উপায়

অপরিহার্য ভাবেই এই লেখাটি লেখার আগে জামা কাপড় ধোয়ার কাজ করেছি, চা তৈরি করেছি, কিছু ইমেইলের উত্তর দিয়েছি, ফেসবুক দেখেছি ও কয়েকটি ব্লগ পড়েছি।

ধোয়ার কাজ শেষ হলে কিছুটা ধীরেসুস্থে বাগানে সেগুলো শুকাতে দিয়েছি এবং সেসময় গাছে পানিও দিয়েছি।
এজন্য সমস্যা হয়নি কারণ লেখাটি শেষ করতে পেরেছি ও সময়মত জমাও দিয়েছি।
আমরা সবাই কাজে কর্মে কিছুটা ঢিলেমি করি। কিন্তু দীর্ঘায়িত ঢিলেমি বা অলসতা শরীরের জন্য খারাপ। কারণ এটি মানুষকে চাপে ফেলে দেয়। এমনকি চিকিৎসকের কাছে যেতেও বিলম্ব ঘটায়।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

এখানে আলসেমি বা ঢিলেমি দুর করার কয়েকটি পরামর্শ দেয়া হলো:
১.মোটিভেশনের জন্য শুধু ইচ্ছাশক্তির ওপর নির্ভর নয়
ক্রীড়া মনোবিদ ইয়ান টেইলরের মতে মানুষ অনেক সময় মনে করে ইচ্ছাশক্তিই সবকিছু কিন্তু এটি সঠিক নয় বলেই মনে করেন তিনি।
"ইচ্ছাশক্তি বা আত্মনিয়ন্ত্রণ এক ধরণের মোটিভেশন কিন্তু এটিই সর্বোত্তম নয়," তিনি বলেন।
তাই শুধু ইচ্ছা শক্তির ওপর নির্ভর না করে তিনি কাজের খারাপ দিকটিকে উপেক্ষা করাই শ্রেয় বলে মনে করেন।
বরং সেটিকে অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে হবে যা হবে লক্ষ্য অর্জনের একটি অংশ।


২. ফেলে রাখা কাজে ইতিবাচক কি আছে দেখুন

ব্যর্থতার ভয় থেকে কাজ ফেলে রাখছেন?
শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুসচিয়া সিরোইস বলছেন, আলস্য বা সময় ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা সমস্যা নয়।
"আপনি যদি উদ্বিগ্ন হন এই ভেবে যে আপনি ব্যর্থ হবেন তাহলে কাজ ফেলে রাখার যুক্তি তৈরি হবে"।
এটা একটা বাজে চক্র তৈরি করতে পারে: বিলম্ব করার কারণে কাজ করার সময় কমে যাচ্ছে, যা ব্যর্থতার ঝুঁকি বাড়ায় এবং আপনাকে উদ্বিগ্ন করে তোলে।
এসব এড়াতে কাজের ইতিবাচক দিকটি দেখুন: হয়তো কিছু শিখবেন বা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আনন্দ পাবেন।

৩. অগ্রিম পরিকল্পনা

আপনি যদি বুঝতে পারেন যে আলসেমি করার একটি প্রবণতা তৈরি হচ্ছে আপনার মধ্যে তাহলে মানসিকভাবে একটি কৌশল নিন। কেউ যদি আপনাকে কোনো সপ্তাহান্তে কোনো মিটিং এর কথা বলে আপনি বরং বলুন মিটিংটি আজ সন্ধ্যায়ই সেরে ফেলার।
আমেরিকান মনোবিদ পিটার গলউইটজার এ কৌশলের ওপর ৯৪টি সমীক্ষা পর্যালোচনা করেন।
তার মতে যারা কৌশলটি অনুসরণ করে তারা অন্যদের চেয়ে লক্ষ্য অর্জনে ২/৩গুণ বেশি দৃঢ় থাকে।


৪. চাপ কমান

যতটা সম্ভব সহজ করুন।
সকালে দৌড়ানোর পরিকল্পনা থাকলে আগেই পোশাক ঠিক করে রাখুন।
কাজের পরিকল্পনা আগের রাতেই টেবিলে চূড়ান্ত করে রাখুন।
তাহলে প্রথমেই আপনি ধারণা পেয়ে যাবেন যে, কি দিয়ে কাজ শুরু করবেন।
আর বাধাগুলো, যেমন স্ক্রিনে এলার্ট সরিয়ে ফেলুন।
ফোন মিউট করে রাখুন ও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে লগ অফ করুন।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:



৫. নিজেকে পুরস্কৃত করুন

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাইটলিন য়ুলির নতুন এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে তাৎক্ষণিক পুরষ্কার কঠোর পরিশ্রম করতে উদ্বুদ্ধ করে।
জটিল কাজ ফেলে রাখা থেকেই আলসেমি শুরু হয়- তাই এর পাল্টা ব্যবস্থা হতে পারে যথাসময়ে কাজের পুরষ্কার।
পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা বলছে জিমে ব্যায়াম করার সময় অডিও বুকস দিলে তা ভালো কাজ করে। অর্থাৎ সেই তাৎক্ষণিক পুরষ্কার।
সুতরাং দেখুন আপনার ক্ষেত্রে কোনটি কাজ করে।


৬. ভবিষ্যতের জন্য অধিকতর বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গিকে উৎসাহিত করুন

অনেকেই আমরা বিশ্বাস করি ভবিষ্যতে আমরা অনেক সময় পাবো।
আমরা ভাবি আমরা সামনে আরও গোছানো, আরও অ্যাকটিভ হবো কিংবা এমন জীবন যাপন করবো সেখানে কোনো ভুল ত্রুটি থাকবেনা।
এটা অবশ্যই হবেনা। এসব কারণেই অনেক সময় আমরা বুঝিনা কাজ শেষ করতে কত সময় লাগবে। এটাকেই বলে পরিকল্পনাগত ভুল।


৭. নিজের প্রতি সদয় হোন

হাতে থাকা কাজ ঝুলিয়ে রাখলে অনেক সময় নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।
যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষার আগে পড়া ঝালিয়ে নিতে পারেনি তাদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে যারা আলসেমি জনিত কারণে নিজেকে ক্ষমা করে দেয় তারা পরবর্তী সময়ে ভালো করে।
সিরোইস বলছেন আমরা নিজের ওপর মাঝে মধ্যে যতটা নির্দয় হই, বন্ধুদের ওপরও ততটা হতে পারিনা।
"তাই আমাদের নিজেদের প্রতিও কিছুটা সহমর্মিতা দেখানো উচিত"।


৮. নিজের সম্পর্কে কথা বলুন

আপনি যে ভাষা ব্যবহার করেন সেটিও একটি ভিন্নতা তৈরি করতে পারে।
ইয়ান টেইলর বলছেন এটা কাজ করে কারণ এটা আপনার ও আপনার আচরণের মধ্যে একটা সম্পর্ক তৈরি করে।

ঢাকা উত্তরে মশা মারতে সোয়া ৫ কোটি টাকার ওষুধ-সরঞ্জাম


মশা নিয়ন্ত্রণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জন্য স্থানীয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোটি ৩২ লাখ ৫৫ হাজার টাকার কীটনাশক সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে সরকার

এর আওতায় ২০০টি ফগার মেশিন, ১৫০টি হস্তচালিত মেশিন ৪০ হাজার লিটার কীটনাশক কেনা হবে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এক মাসের মধ্যেই উত্তর সিটি করপোরেশন এসব ওষুধ সরঞ্জাম হাতে পাবে বলে অর্থমন্ত্রী মুস্তাফা কামাল জানিয়েছেন
বুধবার সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে অর্থমন্ত্রী সভার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান
তিনি বলেন, “এসব ক্রয়ের জন্য টেন্ডার করলে অনেক সময় লাগবে। জাতির কথা বিবেচনা করে ক্রয়ের (সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাজার দরে এসব সরঞ্জাম কীটনাশক সংগ্রহ করা হচ্ছে। এক মাসের মধ্যে তা দেশে আসবে
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য ধরনের কোনো প্রস্তাব না পাওয়ায় কেবল উত্তরের জন্য ক্রয় প্রস্তাবে অনুমতি দেওয়া হয়েছে
উত্তর সিটি যেহেতু কিনছে, দক্ষিণও হয়ত কিনবে। মশা মারা কার্যক্রম সারা বছর চলবে। শীত বেশি হলে মশা এতে থাকবে না।” 
এবার বর্ষার শুরুতে ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর ক্রমশ তা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছর পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন
ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ঢাকা সিটি করপোরেশনের মশা নিধন কার্যক্রমে শিথিলতার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন মশা মারতে যে ওষুধ দিচ্ছে তা কার্যকর নয় বলে আইসিডিডিআর,বির গবেষণায় উঠে আসে
নিয়ে সমালোচনা আর উদ্বেগের মধ্যে বিষয়টি উচ্চ আদালতে গড়ায়। পরে কোরবানির ঈদের আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন চীন থেকে এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভারত থেকে নতুন ওষুধ নিয়ে আসে
মশা নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশ সফর করেছেন জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “তারা পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরে যাবেন। সিঙ্গাপুরের একটি প্রকল্প আছেতারা গর্ত করে সব মশা আকৃষ্ট করে সেখানে আনে, তখন সব মশা একসঙ্গে মারা হয়। আমাদের আগে মশা তাড়ানো হতে, তাতে লাভ বেশি হয়নি।

মহাসড়কে টোল: মাশুল গুণবে কে?


বাংলাদেশের মহাসড়কগুলোয় গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে টোল দেবার নিয়ম চালু করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশের সরকার মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেকের সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়
সেতুর পাশাপাশি মহাসড়ক থেকে টোল আদায় করার জন্য একনেক সভায় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কেবলমাত্র সেতু পারাপার আর কোন কোন উড়াল সড়ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে টোল আদায়ের ব্যবস্থা চালু রয়েছে

নতুন এই ব্যবস্থা কেন চালু করতে চাইছে সরকার?

বাংলাদেশের পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান বলছিলেন, ''মহাসড়ক বলতে আমরা জাতীয় মহাসড়কগুলোকে বুঝিয়েছি, ছোট সড়কগুলো নয়। যেমন ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-ময়মনসিংহ ইত্যাদি সড়ক বুঝিয়েছি। যেগুলো আন্তঃজেলা বড় সড়ক।''
''এতদিন আমরা শুধু কয়েকটি নির্বাচিত সেতুতে টোল নিতাম। কিন্তু রাস্তাঘাট মেরামতে আমাদের বহু অর্থের প্রয়োজন হয়। তাই টোল নিয়ে যদি আলাদা একটি ডেডিকেটেড তহবিলে রাখা যায় এবং সেই টাকাটা রাস্তা মেরামতে ব্যয় করা হবে, এটাই হচ্ছে আইডিয়া।'' বলছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান
তিনি জানান, "প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আইডিয়াটার কথা জানিয়েছেন। এখন সেটা আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে।"